ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫: বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়ার নতুন অধ্যায়

06 Dec 2025
ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এর সময় বাংলাদেশের শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের খেলার মুহূর্ত

ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটের মতো উদ্যোগ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রার অংশ। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের শুরু ২০১৩ সালেই ঘটে, যখন রেডক্রস ও বিভিন্ন প্যারালিম্পিক সংগঠন শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল গঠনে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বিভিন্ন ‘ট্যালেন্ট হান্ট ক্যাম্প’ ও প্রতিভা অনুসন্ধান কর্মসূচি আয়োজিত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও অংশ নেয় বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পাঁচ জাতির সিরিজে বাংলাদেশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল অংশ নেয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, যা দেশের প্যারাক্রিকেট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 

এই ধারাবাহিক অগ্রগতির ধারায় ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫ দেশের প্যারাক্রিকেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট উইং যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ৮০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার ৪টি দলে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন

টুর্নামেন্টটি টি–১০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের দক্ষতা, দলগত সমন্বয়, কৌশল ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব প্রদর্শনের জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। ৩ ও ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশের অন্যতম ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (পিকেএসপি)-তে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্যারাক্রীড়ায় একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুযোগ তৈরি করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে। এনপিসিবি ও বিসিবি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট উইং-এর নেতৃত্বে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হয়েছে। অনুপ্রেরণাদায়ক এই টুর্নামেন্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের প্রতি সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তাদের খেলাধুলার অংশগ্রহণ ও উন্নয়নকে উৎসাহ যোগাচ্ছে।