এশিয়ান প্যারা গেমসের প্রস্তুতি জোরদার
বাংলাদেশের প্যারা স্পোর্টসের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসি বাংলাদেশ)। জাপানের আইচি-নাগোয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে “১ম বাংলাদেশ প্যারা গেমস ২০২৬”।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের শনাক্তকরণ, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের জন্য সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় নির্বাচন করা। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্যারা স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নেওয়াও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রস্তাবিত গেমসে প্যারা অ্যাথলেটিক্স, প্যারা আর্চারি, প্যারা ব্যাডমিন্টন, প্যারা সুইমিং এবং প্যারা টেবিল টেনিস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও নির্বাচন কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিবন্ধিত প্রায় ২০০ জন প্যারা অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেছেন।
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক জনাব মো: দৌলতুজ্জামান খাঁন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জনাব মোহাম্মদ আমিনুল এহসান, পরিচালক (উপসচিব) – প্রশাসন জনাব টিটন খীসা, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব জনাব মো: কবির খাঁন, উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আসিফ আশরাফ, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ শাহ্ আলম, ও বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব তানভির আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেছেন মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল। উপস্থাপনা করেন নির্বাহী সদস্য জনাব মোঃ হেদায়তুল আজিজ। আরও উপস্থিত ছিলেন এনপিসি বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ জনাব মোঃ আসিফুল হাসান, নির্বাহী সদস্য জনাব মোঃ আনোয়ার কবির চৌধুরী ও জনাব সেলিম রহমানসহ আরও অনেকে।
৭ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ট্র্যাক ও ফিল্ডের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শ্রেণিভিত্তিক (Classification-based) ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা পরিচালনায় ছিলেন প্রশিক্ষিত কোচ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেকনিক্যাল অফিসিয়াল, ক্লাসিফায়ার এবং মেডিক্যাল টিম।
গেমস শেষে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, ক্লাসিফিকেশন হালনাগাদ, পাসপোর্ট ও ভিসা প্রস্তুতি, এক্রেডিটেশন, কিট ও জার্সি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, লং জাম্প, হাই জাম্প, শট পুট, ডিসকাস থ্রো এবং জ্যাভলিন থ্রোসহ বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এসব ইভেন্টে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং খর্বাকৃতি ক্রীড়াবিদদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সেলিম রেজা, চৈতী রাণী দেব, পারভেজ আহমেদসহ অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিজয়ের মতো এবা্রেও স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র পদক জিতে বিজয়ের ধারা বজায় রেখেছেন।
এনপিসি বাংলাদেশের বিশ্বাস, ১ম বাংলাদেশ প্যারা গেমস ২০২৬ দেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা মূল্যায়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এই আয়োজন প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ এবং জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেছে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ।